সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পাহাড়ি ঢলের তান্ডবে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, চরম দুর্ভোগে সীমান্তবাসী একদিনেই দুই শিশুর মৃত্যু, জেলায় মৃতের সংখ্যা ৪৭ মধ্যনগরের ১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমপি কামরুলের অর্থায়নে নৌকা বিতরণ পথে যেতে যেতে: পথচারী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সওজকে আদালতের নির্দেশ ‎আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন পাঁচ মিনিটের বক্তব্যে মুগ্ধ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ বর্ষায় নজরুল : শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা মৃত্যুর শীর্ষে সুনামগঞ্জ, ৭ মাসে প্রাণ গেল ৪৫ শিশুর মধ্যনগরে শিশু ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ১ শান্তিগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ‎জামালগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু সংবাদ সম্মেলনে এমরান হোসেন রুবেলের দাবি রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে ৫ গুণীজন পেলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে : মির্জা ফখরুল হেফাজতের উদ্যোগে এক হচ্ছে ৭ ইসলামি দল শান্তিগঞ্জে রুস্তম আলী হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হাওর-নদী হারাচ্ছে পানি ধারণ ক্ষমতা, বাড়ছে অকাল বন্যার শঙ্কা

আমরা শোকাহত, আমরা ক্ষুব্ধ

  • আপলোড সময় : ২৩-০৭-২০২৫ ০৮:১৪:৩৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৩-০৭-২০২৫ ০৮:১৪:৩৬ পূর্বাহ্ন
আমরা শোকাহত, আমরা ক্ষুব্ধ
ঢাকার উত্তরা দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাঙ্গণে বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৩১ জনের প্রাণহানি এবং দেড় শতাধিক আহত হওয়ার হৃদয়বিদারক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত, স্তব্ধ এবং ক্ষুব্ধ। নিহতদের অধিকাংশই কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী। আগুনে ঝলসে যাওয়া ছোট ছোট দেহ, চোখের সামনে সন্তানকে হারানো মায়ের আহাজারি - এই দৃশ্য কেবল একেকটি পরিবারকে নয়, সমগ্র জাতিকে দগ্ধ করেছে। একটি যুদ্ধবিমানের বিধ্বস্ত হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আছড়ে পড়া কেবল দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি ভয়াবহ নিরাপত্তাজনিত ব্যর্থতার নাম। প্রশিক্ষণ চলাকালীন, জনবহুল আবাসিক ও শিক্ষাকেন্দ্রের ওপর দিয়ে যুদ্ধবিমান ওড়ানোর যৌক্তিকতা কোথায়? একটি আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় এমন মারাত্মক ঝুঁকি নেওয়া কীভাবে অনুমোদিত হতে পারে? বিমানটি ছিল এফ-৭ বিজিআই, যা চীনের তৈরি পুরোনো মডেলের একটি সংস্করণ। ইতিপূর্বে বাংলাদেশেই এই মডেলের একাধিক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে এবং পাইলট নিহত হয়েছেন। তারপরও এসব ঝুঁকিপূর্ণ বিমানের ব্যবহার অব্যাহত রাখা এবং সেগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপদ মহড়া ব্যবস্থার অভাব এই দুর্ঘটনার বড় কারণগুলোর একটি বলে মনে করা হচ্ছে। আরও আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, দুর্ঘটনার সময় স্কুলে ক্লাস চলছিল। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক - তিন পক্ষই ভবনে অবস্থান করছিলেন। আগুনের তাপে ভবনের ভেতরে ঢোকার কোনো উপায় ছিল না, বহু শিশু ভবনের মধ্যেই পুড়ে মারা গেছে। এত বড় সংখ্যক প্রাণহানির দায় কে নেবে? নিছক “দুর্ঘটনা” বলেই কি রাষ্ট্র দায় এড়াতে পারে? সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের তাৎক্ষণিক উপস্থিতি ও তৎপরতা প্রশংসার দাবি রাখে, কিন্তু তাতে ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহতা কমেনি। বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছোট্ট শিশুগুলোর অসহ্য যন্ত্রণা, মা-বাবার কান্না - এই সবকিছু রাষ্ট্রযন্ত্রকে আরও মানবিক ও জবাবদিহিমূলক আচরণের প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দেয়। আমরা চাই, এই ঘটনায় একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত হোক। দোষী প্রমাণিত হলে যেন কোনো র‌্যাঙ্ক বা পদ বিবেচনায় না এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি, পুরোনো যুদ্ধবিমানগুলো কী অবস্থা, তারা নিরাপদ কিনা - তা দ্রুত পর্যালোচনা করতে হবে। প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত এলাকাগুলো নির্জন অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। এ দুর্ঘটনা শুধু বিমানবাহিনীর নয়, এটা পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য একটি সতর্ক সংকেত। আর কোনো মা যেন সন্তানকে পোড়ার ঘ্রাণে খুঁজে না ফেরেন, আর কোনো শিশু যেন বইয়ের ব্যাগ হাতে আগুনে পুড়ে না মরে - সেই নিশ্চয়তা আমরা চাই। আমরা শোকাহত, আমরা ক্ষুব্ধ। কিন্তু সেইসঙ্গে আমরা জবাব চাই। মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি যেন রাষ্ট্রের বিবেক নাড়িয়ে দেয় - এই প্রত্যাশা করি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স